এনসিপিকে জামায়াতের আরেকটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে: রাশেদ খাঁন

ফাইল ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : দেশের সদ্য গঠিত রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি সহযোগী বা সমান্তরাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে বলে গুরুতর অভিযোগ ও মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিস্ফোরক ও সুদীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি দেশের নতুন এই রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে নিজের গভীর সংশয় ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিএনপি নেতা তার পোস্টে লিখেছেন, ‘এনসিপিকে মূলত জামায়াতের আরেকটি সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজপথে দাঁড় করানো হচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের নাহিদ ও আসিফরা নিজেরাও হয়তো বুঝতে পারছে না যে, নেপথ্যের কৌশলে কীভাবে পুরো এনসিপিকে ধীরে ধীরে নিজেদের দখলে নিয়ে নিচ্ছে জামায়াত-শিবির। আসিফ নিজেও কিন্তু একটা সময় এই অনুপ্রবেশের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে বেশ সোচ্চার ছিল। কিন্তু সেও আজকাল রহস্যজনক কারণে জামায়াত-শিবিরের লোকজনকে নিজেদের দলে বরণ করে নিচ্ছে। অথচ জামায়াতের ছায়া প্রতিষ্ঠান না হয়ে এনসিপি একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নতুন শক্তি হিসেবে দেশের রাজনীতিতে নতুনভাবে নিজেদের দাঁড় করাতে পারত।’

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে রাশেদ খাঁন তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘বাস্তবতার নিরিখে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নতুন কোনো দল বা প্রগতিশীল শক্তির বিকাশের প্রয়োজনীয়তা ও মাঠপর্যায়ে বাস্তব উপযোগিতা অবশ্যই ছিল। কিন্তু দেশে মূল জামায়াত রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতে আরেকটি “জামায়াতের প্রোম্যাক্স” সংস্করণের নতুন কোনো দলের জাতির সামনে বিন্দুমাত্র প্রয়োজন ছিল না। দুঃখজনকভাবে এনসিপি নতুন রূপ ধারণ করার বদলে একটি পুরাতন ও রক্ষণশীল দর্শনের দল হিসেবেই জাতির সামনে হাজির হলো এবং এই বৃত্ত থেকে তাদের আর মুক্তির কোনো সুযোগ নেই।’

নতুন এই দলটির সাংগঠনিক কাঠামোর সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, ‘বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী দিয়েই মূলত এনসিপির রাজনৈতিক বসন্ত শুরু হয়েছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মূল জামায়াতের মধ্যেই সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েই তাদের শতভাগ বসন্ত উদযাপিত হবে। আর সেই কথিত বসন্তের দাপট দেখে দেশের সাধারণ মানুষ একসময় স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের তৈরি করা শূন্যতা তীব্রভাবে অনুভব করবে। ইতোমধ্যে এনসিপির এমন নানামুখী ব্যর্থতা ও সাংগঠনিক দেউলিয়াত্বের কারণেই দেশে পুনরায় আওয়ামী লীগের ফেরার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাসঙ্গিকতা তৈরি হয়ে গেছে। অথচ এই এনসিপির মাধ্যমেই মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী শূন্যতা সততার সাথে পূরণের এক দারুণ জাতীয় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, যা তারা নিজেদের ভুলে হাতছাড়া করল। দেশের রাজনীতির এই নতুন সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিল আমাদের নাহিদ ও আসিফরা।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» জুলাইয়ে সড়কে ঝরেছে ৪১৮ প্রাণ, বেশি মৃত্যু বাইক দুর্ঘটনায়

» ট্রাইব্যুনালে লতিফ-রুপাসহ ৯ আসামি, ফের শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর

» সংবিধান সংশোধন সংসদেই সম্ভব, রাজপথে বলে লাভ নেই : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

» ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিজয়ে বিরোধীদলীয় নেতার অভিনন্দন

» এলেক্স ইমন হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি শাহরুখসহ তিনজন গ্রেপ্তার

» মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১১ জন গ্রেফতার

» সাংবাদিকরা হবেন তথ্য কমপ্লেক্সের প্রথম ব্যবহারকারী : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

» তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র

» ইগো দেখানোর কিছু নেই-সবাইকে নিয়ে বসুন: শিশির মনির

» যেকোনো মূল্যে ৭০ অনুচ্ছেদ সংধোশন করতে হবে: ১১ দলীয় জোট

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

এনসিপিকে জামায়াতের আরেকটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে: রাশেদ খাঁন

ফাইল ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : দেশের সদ্য গঠিত রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি সহযোগী বা সমান্তরাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে বলে গুরুতর অভিযোগ ও মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিস্ফোরক ও সুদীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি দেশের নতুন এই রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে নিজের গভীর সংশয় ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিএনপি নেতা তার পোস্টে লিখেছেন, ‘এনসিপিকে মূলত জামায়াতের আরেকটি সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজপথে দাঁড় করানো হচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের নাহিদ ও আসিফরা নিজেরাও হয়তো বুঝতে পারছে না যে, নেপথ্যের কৌশলে কীভাবে পুরো এনসিপিকে ধীরে ধীরে নিজেদের দখলে নিয়ে নিচ্ছে জামায়াত-শিবির। আসিফ নিজেও কিন্তু একটা সময় এই অনুপ্রবেশের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে বেশ সোচ্চার ছিল। কিন্তু সেও আজকাল রহস্যজনক কারণে জামায়াত-শিবিরের লোকজনকে নিজেদের দলে বরণ করে নিচ্ছে। অথচ জামায়াতের ছায়া প্রতিষ্ঠান না হয়ে এনসিপি একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নতুন শক্তি হিসেবে দেশের রাজনীতিতে নতুনভাবে নিজেদের দাঁড় করাতে পারত।’

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে রাশেদ খাঁন তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘বাস্তবতার নিরিখে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নতুন কোনো দল বা প্রগতিশীল শক্তির বিকাশের প্রয়োজনীয়তা ও মাঠপর্যায়ে বাস্তব উপযোগিতা অবশ্যই ছিল। কিন্তু দেশে মূল জামায়াত রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতে আরেকটি “জামায়াতের প্রোম্যাক্স” সংস্করণের নতুন কোনো দলের জাতির সামনে বিন্দুমাত্র প্রয়োজন ছিল না। দুঃখজনকভাবে এনসিপি নতুন রূপ ধারণ করার বদলে একটি পুরাতন ও রক্ষণশীল দর্শনের দল হিসেবেই জাতির সামনে হাজির হলো এবং এই বৃত্ত থেকে তাদের আর মুক্তির কোনো সুযোগ নেই।’

নতুন এই দলটির সাংগঠনিক কাঠামোর সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, ‘বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী দিয়েই মূলত এনসিপির রাজনৈতিক বসন্ত শুরু হয়েছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মূল জামায়াতের মধ্যেই সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েই তাদের শতভাগ বসন্ত উদযাপিত হবে। আর সেই কথিত বসন্তের দাপট দেখে দেশের সাধারণ মানুষ একসময় স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের তৈরি করা শূন্যতা তীব্রভাবে অনুভব করবে। ইতোমধ্যে এনসিপির এমন নানামুখী ব্যর্থতা ও সাংগঠনিক দেউলিয়াত্বের কারণেই দেশে পুনরায় আওয়ামী লীগের ফেরার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাসঙ্গিকতা তৈরি হয়ে গেছে। অথচ এই এনসিপির মাধ্যমেই মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী শূন্যতা সততার সাথে পূরণের এক দারুণ জাতীয় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, যা তারা নিজেদের ভুলে হাতছাড়া করল। দেশের রাজনীতির এই নতুন সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিল আমাদের নাহিদ ও আসিফরা।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com